1. azqlgjgesKt@gmail.com : Stabrovpealk :
  2. test47018929@email.imailfree.cc : test47018929 :
  3. multicare.net@gmail.com : সংবাদ শরীয়তপুর :
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বৃষ্টির জন্য ডামুড্যায় বিশেষ নামাজ আদায় শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন হলো বিজয় মঞ্চ  ককটেলের আঘাতে যুবক হ*ত্যা*র অভিযোগ, বিচারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন কবি হাসনা হেনা’র কবিতা “হতে পারবো বীর” জীবনতরী মুক্ত স্কাউট গ্রুপের স্কাউট ওন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলে বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম: এনামুল হক শামীম শরীয়তপুরে আতাউর রহমান খান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ কে এই ইঞ্জিনিয়ার ওয়াছেল কবির গুলফাম বকাউল সরকার গ্রামকে শহরে রূপান্তরের কাজ করছেন : এনামুল হক শামীম বিঝারী উপসী তারাপ্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয় দরিদ্র  ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রদান

অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী সময়ের সাহসী নেত্রী:সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৮৪ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে মাদারীপুর-৩ আসন অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এ অঞ্চলে অনেক জাতীয় নেতার জন্ম হয়েছে। তারা বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার মন্ত্রী হয়েছেন এ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে শক্তিশালী করে রেখেছেন এ অঞ্চলের শ্রদ্ধাভাজন নারী নেত্রী অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী। নিরহংকার, নির্লোভ, শান্তিপ্রিয়, শিক্ষিত ও মার্জিত রুচির এই ব্যক্তিত্ব নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছেন রাজনীতির পেছনে।

দক্ষিণবঙ্গের অবিসংবাদিত প্রবীণ নারী নেত্রী অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী পরিচিত মুখ। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক তাহমিনা সিদ্দিকী দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে রাজনীতি করে আসছেন। সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে দীর্ঘসময় রাজনীতি করা খুব সহজ বিষয় নয়। সেই অসাধ্যকেই সাধন করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাহমিনা সিদ্দিকীর বিশেষ অবদান রয়েছে। মরহুম আব্দুল আজিজ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতির প্যাডে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে গমনের সময় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে প্রত্যয়নপত্র পৌঁছে দিতে তার বড় বোন এবং তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। যুদ্ধকালীন দীর্ঘ সাত মাস তিনি বাড়িতে থাকতে পারেননি। আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর রোষানল থেকে বাঁচতে।

অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকীর বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে। অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকীর বাবা মো. ইব্রাহীম সরদার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি কালকিনি থানা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘসময়। ফলে পারিবারিক রাজনৈতিক পরিবেশে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাহমিনা সিদ্দিকী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি কালকিনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, গৌরনদী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৭৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কালকিনি মহাবিদ্যালয়ে (বর্তমান কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে দীর্ঘসময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হয়ে বিভাগীয় প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা জীবনেও তিনি সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত সময়ে কলেজে আসতেন। সময়মতো ক্লাস নিতেন। কলেজের সব ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন। উন্নয়নমূলক কাজেও অবদান রাখার চেষ্টা করতেন। দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পরামর্শ ও উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। শিক্ষার্থীদের কাছেও তিনি প্রিয় হয়ে ওঠেন। গরিব-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। সঙ্গত কারণেই নিয়ম অনুযায়ী কলেজ থেকে সুনামের সঙ্গে ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট অবসরে যান।

শিক্ষকতা জীবন শুরুর সময় অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে ‘চর ঝাউতলা নারী উন্নয়ন সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক পদের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে পথ চলতে শুরু করেন। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ১৯৮০ এবং ১৯৮৬ সালে (দুই বার) কালকিনি থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ এবং ১৯৮৯ সালে (দুই বার) কালকিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে পুনরায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তারই ধারাবাহিকতায় নেতৃত্ব গুণে আবারও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একই সঙ্গে ১৯৮৭ সাল থেকে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাহমিনা সিদ্দিকী শিক্ষকতা ও রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছেন। তিনি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল এবং ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জন্মলগ্ন ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মহিলা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিষদের মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সুনামের সঙ্গে পালন করেন। ২০১০ সাল থেকে কালকিনি কিশলয় কেজি বিদ্যানিকেতনের অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শারীরিক অসুস্থতা এবং ব্যস্ততার কারণে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এছাড়া ২০১০ সালে শশীকরের শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের ২ মেয়াদে আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৩ বার কালকিনি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন।

তাহমিনা সিদ্দিকী একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তিনি দুই বার পবিত্র হজ পালন করেন। এছাড়া ভিন্ন ধর্মের মানুষকেও সম্মানের চোখে দেখেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ১৯৯৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ২৮ বছর ধরে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব সুনামের সঙ্গে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে সুসাংগঠনিক ভাবে পালন করে আসছেন। তিনি ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাত দিনের সফরসঙ্গী হয়েছিলেন। বিএনপির কর্মীরা ১৯৯২-১৯৯৩ সালে তার ভাড়া বাসায় পুলিশি পাহারায় ২ বার ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি রাজনীতি করতে গিয়ে ২০০৪ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সমাবেশে চার হাজার মানুষের মিছিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুলি ও বোমার মুখে পতিত হন।

অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী ২০১৪ সালে কালকিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু পরে দলীয় সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যান পদে শেষপর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান শাহীনকে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়। সেসময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। কেননা রাজনীতির মাঠে তিনি বরাবরই সহনশীলতায় বিশ্বাসী। তার অনুসারীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত কারণে তিনি একাধিকবার সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে অব্যাহতি না দিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাহমিনা সিদ্দিকী একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-৪১ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে তিনি কখনো জনপ্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেননি। এমপি অবস্থায় ২০২০ সালের নভেম্বরে তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। জনগণের নেত্রী মহামারী উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে সক্রিয় ছিলেন। তার উপসর্গ না থাকলেও জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগদান করার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নমুনা দেন। নমুনা দেওয়ার একদিন পর রাতে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পান। রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। সেসময় তিনি ঢাকার বাসভবনে আইসোলেশনে ছিলেন।

তিনি রাজনৈতিক জীবনে সর্বজন শ্রদ্ধেয় হয়ে আছেন রাজনীতিতে ‘ক্লিনম্যান’ হিসেবে। শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকায় অসংখ্য ভক্ত-শিক্ষার্থী রয়েছে তার। কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই তিনি জনপ্রিয় নন; আদর্শ শিক্ষক হিসেবেও সবার অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। এমনকি অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী দলের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় কোনোদিন তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কখনো সংবাদ লেখা তো দূরের কথা কোনো সাংবাদিকও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেননি। এককথায় তিনি সাদা মনের মানুষ। তবে রাজনৈতিক জীবনে অনেক ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। কিন্তু কখনো ভেঙে পড়েননি। তিনি অবিচল ছিলেন নিজের এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে। সবাইকে তিনি আগলে রাখতে চেয়েছেন স্নেহ ও ভালোবাসা দিয়ে। অভিমান করে রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাইলেও নেতাকর্মী বা দল তাকে কখনোই ছেড়ে যেতে দেয়নি। একজন মায়ের মতো সব নেতাকর্মীকে সন্তানের স্নেহছায়ায় আগলে রেখেছেন। অভিযোগ-অভিমান ঠান্ডা মাথায় নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

তবে বাহাত্তর বছরের জীবনে তিনি আজ কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। চলতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার নেতৃত্বে মাদারীপুর-৩ আসনে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় প্রতীক বা দলের বিরুদ্ধে তিনি কখনো বিষোদগার করেননি। তিনি ব্যক্তির অন্যায়, অত্যাচর, অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়কেও কখনো প্রশ্রয় দেননি। তিনি সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন বারবার। আজীবন দ্বিধা-বিভক্তিকে সমাধান করে এক ছাদের নিচে অবস্থান করার পক্ষে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্দিনে-দুঃসময়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। করোনাকালীন অনলাইনে ভার্চুয়াল উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের সময় কালকিনিবাসীর সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহমিনা সিদ্দিকীকে খোঁজ করেন। তিনি বলেন, ‘তাহমিনা কোথায়? তাকে কথা বলার সুযোগ দাও।’এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সম্মান-মর্যাদা নিয়ে আজীবন রাজনীতি করেছেন। মাদারীপুরের সর্বস্তরের জনগণ তাকে অভিভাবক মনে করে। তিনি কখনোই বিরোধীপক্ষকে হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানী করেননি। তবে দলের স্বার্থে দলীয় সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হননি। কাউকে একচুল পরিমাণ ছাড়ও দেননি।

তাই তো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কালকিনিবাসীর সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হাজির হয়েছে। ফলে এই চ্যালেঞ্জকে উৎরে যেতে হলে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে যে সংগ্রামে অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী অবতীর্ণ হয়েছেন, সেটি কেউ হয়তো কামনা করেননি। পরিস্থিতি হয়তো তাকে বাধ্য করেছে। কারণ তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষ। কোনো রেষারেষির মধ্যে কখনোই যাননি। তবে দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী উন্মুক্ত মাঠ বলেই তিনি এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। তিনি দলের বিরুদ্ধে নয়, ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন। তিনি আজীবন অসীম সাহসিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে ছিলেন এবং থাকবেন। কালকিনিতে (মাদারীপুর) জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এই সময়ে তিনি জয়ী হলে দলও জয়ী হবে। মাদারীপুর-৩ আসন তথা কালকিনিতে শান্তির সুবাতাস বইবে, এমন প্রত্যাশা সবার। কেউ অশান্ত কালকিনি চান না। অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী দীর্ঘজীবন লাভ করুন।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

বৃহ শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট